দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যশোরে ইসলামী ব্যাংকের একটি হিসাব হ্যাক করে সাত লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক চীনা নাগরিকসহ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে যশোর শহরের আরএন রোড এলাকার মিঠু হার্ডওয়্যার স্টোরে এ ঘটনা ঘটে।
আটকরা হলেন চীনা নাগরিক চাওশিং এবং যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার আফজাল হোসেনের ছেলে ইব্রাহিম। বর্তমানে তাঁরা কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
মিঠু হার্ডওয়্যার স্টোরের মালিক মিঠু মজুমদার জানান, যশোর আইটি পার্কে কর্মরত পরিচয় দিয়ে ইমরানসহ কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তাঁর দোকান থেকে বিভিন্ন মালামাল কিনতেন। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে গত সোমবার চীনা নাগরিক চাওশিং, ইমরানসহ কয়েকজন তাঁর দোকানে আসেন। তাঁরা ৪৬ হাজার টাকার পণ্য কেনার পর মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে তাঁর ব্যাংক হিসাবে সাত লাখ টাকা পাঠান।
মিঠু মজুমদারের দাবি, ওই ব্যক্তিরা তাঁকে জানান, পণ্যের মূল্য বাদ দিয়ে বাকি টাকার বিপরীতে তাঁদের একটি ব্যাংক চেক দিতে হবে। পরিচিত হওয়ায় এবং নিজের হিসাবে সাত লাখ টাকা জমা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি তাঁদের একটি চেক দেন। পরে ওই চেক ব্যবহার করে প্রতারক চক্রের সদস্যরা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কিছু সময় পর ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মিঠু মজুমদারকে ব্যাংকে ডেকে পাঠায়। সেখানে তিনি জানতে পারেন, ঢাকার টঙ্গি এলাকার ইসলামী ব্যাংকের একটি শাখার গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব হ্যাক করে সাত লাখ টাকা তাঁর হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছিল। পরে চেকের মাধ্যমে ওই টাকা উত্তোলন করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
মিঠু মজুমদার বলেন, প্রতারণার ঘটনায় শেষ পর্যন্ত দায় তাঁর ওপরই এসে পড়ে। এর মধ্যে বুধবার বিকেলে আরএন রোড এলাকার আরেকটি দোকানে চীনা নাগরিক চাওশিং ও ইব্রাহিমকে দেখতে পান তিনি। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, দুইজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। চীনা নাগরিকের নাম প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তবে তাঁর বিস্তারিত পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের একটি বিশেষ দল কাজ করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং হ্যাক করা ব্যাংক হিসাব থেকে কীভাবে টাকা স্থানান্তর ও উত্তোলন করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এমএম/